এবার খেলতে চান মাওলানা ফেরদাউসুর

শেয়ার করুণ

নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি মসজিদের খতিব আল্লামা আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কটুক্তির প্রতিবাদ ও অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ওলামা পরিষদ। এসময় মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান আহলে সুন্নাত নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কোথায় খেলবি? খেলতে আয়।”

আজ শুক্রবার (৬ অক্টোবর) জুমআর নামাজের পর ডিআইটি মসজিদের সামনে থেকে বিপুল সংখ্য মুসুল্লির অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।

বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে ডিআইটি মসজিদের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মহানগর ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, কার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিবো। তার নাম নেয়ার মতো লোক আমরা? তখন উপস্থিত মুসুল্লিরা চিৎকার করে বলেন না।

বিতর্কিত মাওলানা গাজী মোঃ তামিম বিল্লাহ আল কাদরীকে উদ্দেশ্য করে মাওলানা ফেরদাউস বলেন, ১৮/১৯ জন লোক নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে। এটা কি হাস্যকর বিষয় না। তাই সত্যিকার অর্থে এখানে আমার বক্তব্য দিতে লজ্জা লাগে। আরে, আমরা তো আরও বড় বড় জিনিস নিয়ে খেলি। এটা কি খেলার জিনিস। এসময় মাওলানা ফেরদাউস আল্লামা আব্দুল আউয়ালের দিকে তাকিয়ে বলেন, মুরুব্বি এতো ধৈর্য্যশীল হলে সমস্যা। আমরা আগেই বলছি, এই যে জসনে জুলুসের নামে গোটা রাস্তা বøক করে এবং গলায় মালা পড়ে, আরে ব্যাটা রুসুলের শান কোথায় আর তুই গলায় মালা পড়ার তুই কে? আরে আল্লাহর রাসুল হচ্ছে আমাদের কলিজার টুকরা। আব্দুল আউয়াল সাহেব নারায়ণগঞ্জের সমস্থ তৌহিদী জনতাকে জানিয়েছেন, তাদের হৃদয়ে রসুলের প্রেম ভালোবাসা কিভাবে করতে হয় তা জানিয়েছেন। আর তোমরা বেদাতের আখড়া করতেছো। খোদার কসম করে বলি মুরব্বি (আব্দুল আউয়াল) যদি ঘোষণা দেয় আগামীতে তোমাদেরকে রাস্তায় নামতে দিবো না। কাদের সাথে কথা বল? হিসেব করে কথা বইলো। রেকর্ড যদি ফাঁস করি সমস্যা আছে। ধরা পড়ছিল না। ভুইলা গেছে। আরে ব্যাটা আব্দুল আউয়াল তো দুরের কথা, আগে জামাল উদ্দিন বারীর সাথে খেলতে আয়। কোথায় খেলবি? পালাইবার জায়গা পাবি না। সাবধান করে দিচ্ছি। এখানে বসে থাকবো আর বলবো আয়, তখন কই যাইবো, ওগুলারে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা পরীক্ষিত লোক।

তবে সরকারকে একটা কথ বলি, এই যে ইসলামি ফাউন্ডেশন জায়গায় মসজিদ করছে, এই মসজিদের সুনাম কেনো হয় না জানেন? তার কারণ সঠিক নেতৃত্বের কাছে আপনারা মসজিদ দিতে পারেন নাই। মডেল মসজিদের নেতৃত্ব আপনারা বেদাতি, মাজার পূজারিদের হাতে দিয়েছেন, কলঙ্ক করেছেন। আপনার মুরুব্বি আব্দুল আউয়াল সাহেবের কাছে আসতেন, বলতেন হুজুর আমরা নারায়ণগঞ্জে মডেল মসজিদ করেছি। কাকে কাকে ঈমাম দিলে ভালো হয়। আরে ঈমাম-ই তো মসজিদের নাম সুনাম করবে। ডিআইটি মসজিদ কে চিনতো, আব্দুল আউয়াল ঈমাম না হলে। এই জন্য মসজিদের নামে নয়, ব্যক্তির নামে সব প্রচার হয়। ইসলামি ফাউন্ডেশন বেদাতি, মাজারপূজারিদের মসজিদের দায়িত্ব দিয়েছে। এই জন্য আপনাদের মসজিদের নামও কেউ নেয় না। সঠিক নেতৃত্বের হাতে দেন।

পরিশেষে মাওলানা ফেরদাউস বলেন, আমরা এখন সুশৃংখলভাবে আমরা মিছিল করবো। তবে তাকবিরটা একটু জোরে দিতে হবে, যাতে তারা নামলে আমাদের তাকবিরের আওয়াজে মনে করে নামা যাবে না।

প্রসঙ্গত: বিতর্কিত মাওলানা গাজী মোঃ তামিম বিল্লাহ আল কাদরী ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গুটিকয়েক লোক নিয়ে মানববন্ধন করেন। সেখানে তিনি ডিআইটি মসজিদের খতিব আল্লামা আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেন এবং ৬৪ জেলায় মামলা করার হুমকি দেন।

নিউজটি শেয়ার করুণ