দ্বিগুবাবুর বাজারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান, দোকান রেখে পালালেন ব্যবসায়ীরা

শেয়ার করুণ

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় রাখতে নারায়ণগঞ্জের বাজার মনিটরিং করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান ছেড়ে পালিয়ে যান মুরগী ও সবজি ব্যবসায়ীরা।

আজ সোমবার (১১ মার্চ) বিকেলে শহরের দিগু বাজারে এ অভিযান চালান জেলা প্রশাসকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারাশিদ বিন এনামের নেতৃত্বে একটি টিম।
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট দেখে দোকান রেখে পালিয়ে যান মুরগি ও সবজি বিক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিগুবাজাতে প্রায় ১০-১২টি মুরগি ব্যবসায়ী দোকান রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। লেবুর দোকান রেখে দোকানি দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ৪০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। প্রতি হালি লেবু বিক্রি করছেন ১০০-১২০ টাকায়।

ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালিয়ে থাকা বাতেন নামে এক লেবু বিক্রেতা তার দোকান থেকে একটু দূর দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে দোকানের সামনে আনা হয়। লেবুর দাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, প্রতি হালি লেবু ৫০-৬০ টাকা। এ সময় তার কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ভোক্তারা। এই দোকানিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ শাখা। পরে বাতেন বলেন, আড়ৎদার বেশি রাখলে আমাদের তো এই দামেই বিক্রি করতে হবে। তারা দাম কম নিলে, কম দামে বিক্রি করতে পারব।

দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখতে বাজারে নেতৃত্বে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা করে।

বাজারে পালিয়ে যাওয়া দোকানিদের সামনে ডেকে আনেন ম্যাজিস্ট্রেট। বেশিরভাগ দোকানে মূল্যতালিকা না থাকায় কঠোরভাবে সতর্ক করেন তিনি। তদারকির অংশ হিসেবে লেবু হালি প্রতি ২০ টাকা কমে ও মুরগি কেজি প্রতি ২০ টাকা কম মূল্যে বিক্রি করার ওয়াদা করান বিক্রেতাদের। এ সময় দোকানে দোকানে মূল্যতালিকা সাটানোর নির্দেশনা দেন তিনি। সেই সাথে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে অধিক জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদানের হুঁশিয়ারি করেন ব্যবসায়ীদের।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারাশিদ বিন এনাম জানান, রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। আমরা তারই আলোকে আজকে বাজার মনিটরিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে এসেছি। এ সময় দুই সবজি দোকানিকে অতিরিক্ত দাম ও মূল্য তালিকা না থাকার অপরাধে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মূল্য বৃদ্ধি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুরো রমজান মাসজুড়েই আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে দুপুরে জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রশাসন, ভোক্তা অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক।

নিউজটি শেয়ার করুণ