শাব্বির সুশৃঙ্খল নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার জন্য জীবন দিয়েছিল: তৈমূর আলম

শেয়ার করুণ

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ হল সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। জেলা প্রশাসন ও ৪২টি প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা হয়েছিলো। সেখানে জুট সন্ত্রাস মাদক সহ সমাজের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে বক্তব্য রাখেন শাব্বির আলম খন্দকার। ওই সভায় অনেক বড় ব্যবসায়ী নেতা ছিলেন, তারা কিছু বলেনি। শাব্বির বিকেএমইএ ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যও ছিলেন। ওই সময় ও দাড়িয়ে বলেন, আমার জানাযায় অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য শুরু করছি। ওই তিনি, সন্ত্রাস ঝুট সন্ত্রাস সহ বিভিন্ন অপরাধ তুলে ধরেন। এতে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন এ্যাকশণ শুরু হয়। এর জের ধরে শাব্বিরকে হত্যা করা হলো। তাকে এই হত্যা কারণে আপনারা প্রতি বছর স্মরণ করেন।

বিকেএমইএ নিয়ে তৈমূর বলেন, হত্যার পর বিকেএমইএ থেকে আমাদের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা অফার দিতে চেয়েছিল। আমরা সেই টাকাটি গ্রহণ করিনি, বলেছি তাকে (শাব্বির) সম্মানটুকু করবেন। আমরা টাকাটা চাই না। করোনার মধ্যে খোরশেদ যে ভুমিকা রাখছিলো তখন, সেলিম ওসমান সাহেব ১০লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিলো। সেই টাকাও নেয়নি।

দুঃখের সহিত বলতে চাই, বিকেএমএই সভাকক্ষে সাব্বির আলম খন্দকারের নাম রাখা হয়েছিলো। তাকে উৎসর্গ করে তার নামে রাখা হয়েছিলো। আমি জানতে পারলাম, সেই নামটি এখন উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। বিকেএমইএ’র নতুন ভবনে তার নামকরণে সভাকক্ষ রাখা হয়নি। আমি সেলিম ওসমান এমপি সাথে কথা বলেছি, আমরা আপনাদের কাছ থেকে কোন আর্থিক সহযোগিতা চাই না। যে কারণে শাব্বিরের হত্যা হয়ে ছিলো, ওই কারণে আপনাদের বোর্ড সভা তার নাম করণ করেছিলেন। আপনারা নতুন ভবনে শাব্বিরের নামটি পুনরায় স্থাপন করুণ। চেম্বার অব কর্মাসে কাছে অনুরোধ করেছি, আপনারা শাব্বিরে ছবি স্থাপন করুণ। আগে চেম্বারে শাব্বিরের ছবি ছিলো, এখন সেই ছবিটি নেই। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে শাব্বিরে জীবন গেলেও তাকে সম্মান না করলে আপনারা প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।

মাদক ইভটিজিং সন্ত্রাস চাঁদাবাজ নগরে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। কয়েক মাস আগে সন্ত্রাস করতে গিয়ে পুলিশ আহত হলেও কোন এ্যাকশন নেয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি কয়েকবার বলেছেন, মাদক নিমূল করবেন। কিন্তু তার এলাকায় বেশি মাদক বিক্রি হয়। মাসদাইর এলাকায় বেশি মাদকের জোন রয়েছে, সবচেয়ে বেশি মাদক রয়েছে চার আসনে। যারা এই দেশ থেকে মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজমুক্ত করতে হলে শাব্বির নামে শপথ নেন। তিনি যেভাবে আন্তরিকভাবে চেয়েছিলো, আপনার সেভাবে করুণ। শুধু লোক দেখানো ও পত্রিকা কভারেজ নেয়া জন্য হলে মাদকমুক্ত হবে না।

এর আগে নিহত শাব্বির আলম খন্দকারের মেয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেছেন, আমার বাবা হত্যা বিচার হবে। আসামীরা বার বার তারিখ দিয়ে বিচার দেরি করছে। আসামী বলেছে, তারা দেশে বাহিরে ছিলো। কিন্তু হত্যাটি বিশেষ পরিকল্পিত ছিল, তারা পরিকল্পনা মতামতে দেশের বাহিরে থেকে হত্যা করেছে আমার বাবাকে। তিনি আপনাদের সুশৃঙ্খল নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুণ