“শিগগিরই বিএনপি ছাড়ছেন কেন্দ্রীয় ৩০ নেতা”

শেয়ার করুণ

শিগগির বিএনপির অর্ধশত নেতা দল ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল বিএনপি মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন, যারা তৃণমূল বিএনপি থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন। অতীতে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের পাশাপাশি যারা দলে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ও অবহেলিত, তারাও রয়েছেন। এ ছাড়া অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন, যারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট। তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে নিজ চেম্বারে কালবেলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সদ্যই তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। এ সময় আগামী নির্বাচন, নির্বাচনী জোট গঠনসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার গত মঙ্গলবার তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন। যোগ দিয়েই তিনি দলটির কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন। তৈমূর আলম নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একজন ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় গত বছরের জানুয়ারিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। পরে ভুল স্বীকার করে দলে ফেরার জন্য লিখিত আবেদনও করেন তিনি। কিন্তু দল থেকে কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।

বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে বিএনপি অনড় অবস্থানে রয়েছে। গুঞ্জন আছে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না গেলে দলটির অনেক নেতা অন্য দল থেকে নির্বাচন করবেন। এ ক্ষেত্রে এখন জোরেশোরে তৃণমূল বিএনপির কথা শোনা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তৈমূর বলেন, যে বাঘ রক্তের স্বাদ-সন্ধান পেয়েছে, সে শিকার করবেই। যিনি এমপি হয়েছেন কিংবা আগামীতে এমপি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, তিনি তো নির্বাচন করবেনই। তার তো এমপি হওয়ার একটা ইচ্ছা থাকবেই। বিএনপির এমন ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এখানে কেন্দ্র ও তৃণমূল দুই স্তরের নেতাই রয়েছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাই রয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এখানে অতীতে যারা বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেছেন তারা যেমন আছেন, তেমনি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন নেতারাও আছেন। মোটকথা, যারা নির্বাচন করতে চান, তারা যোগাযোগ করছেন। অন্য দল থেকে এসে যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের আগে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে আমরা একটা খড়কুটা। তবে এই খড়কুটাদেরও একটা আশ্রয়স্থল দরকার। মান-অভিমানের কোনো বিষয় নয়। একটা আশ্রয়স্থল খুঁজে পাওয়া, সেটা কুঁড়েঘর হোক বা খড়কুটার ঘর হোক। তাই তৃণমূল বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এবং দলের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আগামীকাল (আজ) শুক্রবার বৈঠক করব। সেখানে একটা রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। প্রথম কাজ হবে সংগঠনকে মজবুত করা। এরপর জোট মজবুত করব। এরপর দল এবং জোটে আলোচনা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।

শোনা যাচ্ছে, তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচনী জোট গঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, তৃণমূল বিএনপির সম্মেলনে ৩৪টি রাজনৈতিক দল এসেছিল। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে। এর বাইরে আরও অনেক দল যোগাযোগ করছে। সবাইকে নিয়ে অচিরেই একটা জোট গঠন করব। আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোকে সামনে রেখেই এই জোট গঠিত হবে।

আগামী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব তৈমূর বলেন, ৩০০ আসনেই আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি থাকবে। তবে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল ও জোটগতভাবে আলোচনা করে শিগগির এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আমি মনে করি, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। কারণ, আমাদের দেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আদলে। আমলারা নীতিতে চলে না, নির্দেশে চলে। আমরা মনে করি, সরকার এখনো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে জনগণের আস্থায় আনতে পারেনি। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আস্থায় আনতে হবে।

বিএনপির একদফা আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন দলটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে; কিন্তু বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্ত্ব’ দিয়েছিলেন। তখন বিএনপি যদি উনার তত্ত্বটা মেনে নিত, তাহলে তাদের আজকে এত ঝামেলায় পড়তে হতো না। তবে বিএনপি তো এখনো নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা দিতে পারেনি। তারা আগে ফর্মুলা দিক। তারপর আমরাও রূপরেখা দেব। আমাদের আগের রূপরেখার সঙ্গে বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতি, আইন-কানুন সবকিছু পর্যালোচনা করে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা দেব। আমরা স্পিকিং রূপরেখা দেব, যেটা নিয়ে মানুষ আলোচনা করতে পারে।”

বিএনপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দলটির সাবেক এই নেতা বলেন, যারা রাজনীতিবিদ, যারা নির্বাচনমুখী নেতা তারা চুপচাপ থাকতে পারেন না। রাজনীতি, নির্বাচন তাদের নেশা। নির্বাচনে না যাওয়ায় কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় নেতারা পিছিয়ে পড়ছেন, তাদের সেবা থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের অন্তত ৩০ শতাংশ লোক বিজয়ী হতো। যেটা বিএনপির সম্পদ হতো।

 

 

সূত্র: দৈনিক কালবেলা

নিউজটি শেয়ার করুণ