নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী মাঠে দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শামীম ওসমানের অনুপস্থিতিতে এবার এ আসনে ভোটের লড়াই হয়ে উঠেছে উন্মুক্ত ও বহুমুখী। এ পরিস্থিতিতে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রধানত ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন— হরিণ মার্কায় শাহ আলম (বিএনপির বিদ্রোহী), শাপলা কলি মার্কায় আব্দুল্লাহ আল আমিন, খেজুর গাছ মার্কায় মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী (বিএনপির প্রার্থী), ফুটবল মার্কায় গিয়াসউদ্দিন, হাতপাখা মার্কায় মুফতি ইসমাইল (চরমোনাই) এবং হাতি মার্কায় মোহাম্মদ আলী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটের মাঠ ‘ওয়াইড ওপেন’। কোনো বড় দলের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক না থাকায় ভোটাররা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে করে নতুন ও উদীয়মান নেতৃত্বের জন্য তৈরি হয়েছে সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী প্রচারণার কারণে শাহ আলম বর্তমানে এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে আব্দুল্লাহ আল আমিন ও মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা। দুই প্রার্থীর ভোট প্রায় সমান সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আব্দুল্লাহ আল আমিনের নির্বাচনী শিবির স্বীকার করছে যে, তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, প্রতীক পরিচিতির সময় স্বল্পতা, এবং সংসদ নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতার ঘাটতি। এছাড়া কিছু রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বিরোধের কারণে আর্থিক সহায়তাও তুলনামূলক কম বলে জানা গেছে।
তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আব্দুল্লাহ আল আমিনের শক্তির জায়গাগুলো তাকে এগিয়ে রাখছে। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়ায় দলীয় সমর্থন দ্রুত পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি জামায়াতপন্থী পরিবার থেকে উঠে আসায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
নির্বাচনী মাঠে স্বল্প সম্পদ নিয়েও সংগঠিত প্রচারণা, কর্মীদের নিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দাবি করছেন তার সমর্থকরা।
নির্বাচনী সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রচারণা অব্যাহত রাখতে পারলে আব্দুল্লাহ আল আমিনের বিজয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে ঢাকার প্রবেশমুখ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কৌশলগত হওয়ায় এ আসনে জয় পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে তার শিবির।
আব্দুল্লাহ আল আমিনের সমর্থকদের মতে, পর্যাপ্ত সময়, অর্থ ও সংগঠিত সহযোগিতা পেলে এই আসনে এনসিপির বিজয় সম্ভব বলে আশাবাদী শাপলা কলির সমর্থকরা।

