ফতুল্লার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলী এবার নিজেই নেতৃত্বের পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়লেন। এক সময় যিনি অন্যদের নেতৃত্বের আসনে বসাতে ভূমিকা রাখতেন, সেই তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে জামানতও হারিয়েছেন।
এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ জন। ১৭৭টি কেন্দ্রে আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫ ভোট। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী মুফতি মনির কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ আলীর ঝুলিতে গেছে মাত্র ১১ হাজার ৩২৮ ভোট। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে মোহাম্মদ আলীর উত্থান নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯৫ সালে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের সমাবেশে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এ যোগ দেন, সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য হন। যদিও সেই সংসদের মেয়াদ ছিল স্বল্প, তবু এমপি পরিচয় তার সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়। পরে ঋণ খেলাপির কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রাখেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে মনোনয়ন রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা আলোচনায় আসে। শেষ পর্যন্ত মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হন এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম শামীম ওসমান কে হারান। তবে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে দ্বন্দ্বে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়, আর মোহাম্মদ আলী ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
ব্যবসায়ী অঙ্গনেও তার অবস্থান ছিল দৃশ্যমান। তিনি এক সময় এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ সভাপতি ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নীতিগত পরামর্শদাতা মহলেও তার নাম শোনা যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হন। এতে সমর্থন যেমন পেয়েছেন, তেমনি সমালোচনাও কুড়িয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর এবারের ফলাফল মোহাম্মদ আলীর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, তার পুরনো নেটওয়ার্ক আর প্রভাব আগের মতো কাজে লাগেনি, আর ভোটাররা নতুন সমীকরণের দিকেই ঝুঁকেছেন।

