ফতুল্লায় এনসিপির এমপি: চিন্তার ভাজ বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসীদের কপালে
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ফতুল্লা-বিসিক শিল্পাঞ্চলের ঝুট সন্ত্রাসী চক্রগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা ও শ্রমিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারকারী এসব গোষ্ঠী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সূত্র জানায়, নির্বাচনের পর থেকেই নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল্লাহ আল আমীন শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে সক্রিয় ভূমিকা শুরু করেছেন। বিসিক এলাকার বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন, মালিক-শ্রমিক বৈঠক এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিশ্চয়তা দেওয়ার ঘোষণায় শিল্পমহলে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এতে ঝুট দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো চাপের মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিসিকের একাধিক ক্ষুদ্র শিল্পমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঝুট সন্ত্রাসীদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। নতুন এমপি যদি কঠোর অবস্থান নেন, তাহলে শিল্পাঞ্চল বাঁচবে।” শ্রমিক প্রতিনিধিরাও মনে করছেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কমলে ঝুটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভয়ভীতি কমবে।
এদিকে ঝুট ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে নীরব অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নতুন এমপির সক্রিয়তা ও প্রশাসনের সম্ভাব্য কঠোর অবস্থানের আশঙ্কায় তারা কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে এনসিপির স্থানীয় নেতারা জানান, নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল্লাহ আল আমীনের অঙ্গীকার—ফতুল্লা-বিসিক শিল্পাঞ্চলকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ ঝুট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের পর ফতুল্লা-বিসিক এলাকায় প্রভাবের ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থান পুরোনো আধিপত্যবাদী ঝুট চক্রগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—যার প্রভাব শিল্পাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়িক পরিবেশে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

