মশিউর রনির হাতেই নিরাপদ ছিল ধানের শীষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে—নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি যদি তাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিত, তাহলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত।
সরকারি তফসিল অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ৪টি আসনে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে জয়ী হন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি ১,০৬,১৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী পান ৮০,৬১৯ ভোট।
মনোনয়ন অনিশ্চয়তা ও তৃণমূলের চাপ
নির্বাচনের আগে দীর্ঘ সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তফসিল ঘোষণার পরও দলীয় মনোনয়ন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়। ওই সময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ মশিউর রহমান রনিকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তোলে—এমন বক্তব্য এখন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা, গণসংযোগ ও সামাজিক উদ্যোগের কারণে রনি এ আসনে গ্রহণযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ফলে তাকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির ভোটব্যাংক আরও সুসংহত হতে পারত—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন আলোচনায়।
মাঠে সক্রিয়তা ও পরিচিতি
মশিউর রহমান রনির রাজনৈতিক পরিচিতি মূলত দলীয় কর্মসূচি, গণসংযোগ ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ চালান এবং নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন—যার ভিডিও ও সংবাদ স্থানীয়ভাবে প্রচার পায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মনোনয়ন না পাওয়ায় তৃণমূলের একটি অংশে হতাশা তৈরি হয়েছিল। ফলে সাংগঠনিক সমন্বয় দুর্বল হওয়াও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন বিশ্লেষণও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের তাৎপর্য
২০২৬ সালের নির্বাচন নারায়ণগঞ্জে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফলাফল দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া, তৃণমূলের মতামত এবং প্রার্থী নির্বাচনের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য—“নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী নির্বাচন ভিন্ন হলে ফলও ভিন্ন হতে পারত”—এমন ধারণা এখন রাজনৈতিক আড্ডা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে

