না.গঞ্জে আ.লীগের অফিস খুলছে কবে?
নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় বাড়ছে জল্পনা
নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে তালাবদ্ধ কার্যালয় খোলা ও খুলনায় নেতাকর্মীদের পুনঃপ্রবেশের ঘটনার পর এবার প্রশ্ন উঠেছে—নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো কবে খুলবে?
সম্প্রতি পঞ্চগড় সদরের চাকলাহাট ইউনিয়নে বিএনপির উপজেলা সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে তালাবদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খোলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা প্রশমনের স্বার্থে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে খুলনার সোনাডাঙা থানা এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তালাবদ্ধ কার্যালয়ে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা–এর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং দলীয় স্লোগান দেওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচনের মাত্র দুই দিনের মাথায় এই পুনঃপ্রবেশ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আহমদ হামিম রাহাত বলেন, আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ একটি দলের এমন তৎপরতা উদ্বেগজনক এবং এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন থাকতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতা চললে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামবে।
না.গঞ্জে কী অবস্থা
নারায়ণগঞ্জে গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, দখল বা তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের সূত্র মতে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয় খোলার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে দেশের অন্যান্য স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কার্যালয় খোলা বা দখল নেওয়ার ঘটনার পর না.গঞ্জেও এ নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা বাড়ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা আদালতের নতুন নির্দেশনা ছাড়া প্রকাশ্যে কার্যালয় খোলা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের তালাবদ্ধ কার্যালয়গুলো কবে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলবে?
এ প্রশ্নের উত্তর এখনো রাজনৈতিক ও আইনি সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

