স্ত্রীর মোহরানার টাকা, শ্বাশুড়ির জমি-গাছ বিক্রির টাকায় চলে আল আমীনের নির্বাচনী প্রচারণা
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যতিক্রমী ত্যাগ ও ব্যক্তিগত অর্থসংকটের চিত্র তুলে ধরেছেন এনসিপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমীন। তিনি জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী প্রচারণার বড় অংশই পরিচালিত হয়েছে পরিবারের ত্যাগ ও স্ত্রীর মোহরানার অর্থসহ শ্বাশুড়ির সম্পদ বিক্রির টাকায়।
এক আবেগঘন কৃতজ্ঞতা বার্তায় আব্দুল্লাহ আল আমীন বলেন, পুরো নির্বাচনী যাত্রায় অসংখ্য মানুষ নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় ত্যাগ এসেছে তার পরিবার থেকে। তিনি উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী সেতু অসুস্থ অবস্থায়ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে সমর্থন দিয়েছেন। আত্মীয়স্বজনের অনীহা ও তাচ্ছিল্যের মাঝেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন এবং নিজের মোহরানার টাকা ও সঞ্চয় প্রচারণার জন্য তুলে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অর্থসংকটের সময় তার অজান্তেই শ্বাশুড়ি নিজের জমি বিক্রি করেন, এমনকি বাড়ির বাগানের গাছ বিক্রি করেও নির্বাচনী তহবিলে অর্থ জোগান দেন। এসব ত্যাগ তাকে গভীরভাবে ঋণী করেছে বলে উল্লেখ করেন আল আমীন।
পরিবারের পাশাপাশি দলীয় ও জোটের নেতাকর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এনসিপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ দেড় বছর ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা চালিয়েছেন বলে জানান তিনি। রিকশাভাড়া পর্যন্ত দিতে না পারলেও তারা নিজ নিজ পকেটের টাকা, চাকরি ও টিউশনের আয়ের অর্থ ব্যয় করে মাঠে থেকেছেন। নেতাকর্মীদের পরিবারও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও তাকে সমর্থন দিয়ে নিজ নিজ প্রার্থী প্রত্যাহার বা মনোনয়ন না দিয়ে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন বলে জানান তিনি। বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নানা বাধা-হুমকি উপেক্ষা করে মাঠে থাকার কথাও উল্লেখ করেন।
আল আমীন আরও বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের অংশগ্রহণ তার প্রচারণায় অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। নারায়ণগঞ্জের প্রথম শহীদ আদিলের বাবা নির্বাচনী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শহীদদের মায়েরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছেন।
এত মানুষের ত্যাগ, দোয়া ও আস্থার ঋণ শোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জকে নিরাপদ, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-মাদকমুক্ত একটি নাগরিক শহরে রূপান্তর করতে জীবন বাজি রাখবো।” তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, কোনো ব্যক্তি তার সঙ্গে ছবি তুলে বা পরিচয়ের অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নিতে চাইলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার দরজা সবার জন্য খোলা থাকলেও কোনো চাঁদা, দুর্নীতি, মাদক বা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।
শেষে তিনি ফুল-মিষ্টি বা আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নিয়ে আসা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি কাজের মাধ্যমেই দিতে চান।

