নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে তরুনদের আলোচনায় খোরশেদ–সিরাজুল মামুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ কমেনি। জাতীয় রাজনীতির রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন তরুণ ফোরামে ঘুরছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম।
ডজনখানেক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দুজনকে নিয়ে— সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরসেদ এবং শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সিরাজুল মামুন। তরুণদের একটি অংশ মনে করছেন, এই দুজনের মধ্য থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব উঠে আসতে পারে।
করোনা সময়ে আলোচনায় খোরসেদ
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরসেদ দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। করোনাকালে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি অনেকের কাছে ‘করোনা হিরো’ হিসেবে পরিচিতি পান। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নগরীর নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সমর্থকদের দাবি।
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে মামুন
অন্যদিকে সিরাজুল মামুন সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও আলোচনায় রয়েছেন। সমর্থকদের অনেকেই তাকে ‘জনতার এমপি’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি খেলাফত মজলিস-এর যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ৪৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনের কারণে শহরজুড়ে তার অসংখ্য ছাত্র ও শুভানুধ্যায়ী রয়েছে, যা তার সামাজিক ভিত্তিকে শক্ত করেছে।
তরুণ ভোটারদের আলোচনায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা
স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে দেখা যাচ্ছে, তরুণ ভোটাররা নেতৃত্বে পরিবর্তন ও সেবানির্ভর রাজনীতি চান। কেউ অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, কেউ আবার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও শিক্ষাগত পটভূমিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নগরবাসীর একাংশ মনে করছেন, বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী টানা কয়েক মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর এবার নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আগাম জনমত গড়ে উঠছে।
সামনে কী
এখনো সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত, জোট রাজনীতি ও স্থানীয় সমীকরণই নির্ধারণ করবে কে হবেন প্রার্থী।
একটি বিষয় স্পষ্ট— নারায়ণগঞ্জের তরুণ ভোটাররা এবার আগের চেয়ে বেশি সরব। তাদের আলোচনায় আপাতত এগিয়ে রয়েছে এই দুই নামই।

