আন্দোলনে ফাঁকি, ভোটে ব্যর্থতা—কোন মুখে মেয়র চান?” টিপুর স্ট্যাটাসে নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতে তোলপাড়
আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি-এর সদস্য সচিব, ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে কঠোর ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীদের ভূমিকা নিয়ে।
তিনি লেখেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের বিরোধী আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন না, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ব্যর্থ হয়েছেন, এমনকি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েও বিদেশে অবস্থান করে ভোগবিলাসে ব্যস্ত ছিলেন—তারা কোন মুখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনোনয়ন চান?
টিপু সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, যারা আন্দোলনের কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন না এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেননি, তারা মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন? তৃণমূল কি তাদের সমর্থন দেবে?
কার দিকে ইঙ্গিত?
স্ট্যাটাসে কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। মহানগর বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য কয়েকজন মেয়রপ্রত্যাশীর সাম্প্রতিক তৎপরতা, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন এবং বিদেশে অবস্থান নিয়ে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। টিপুর এই বক্তব্য সেই গুঞ্জনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভেতরে মনোনয়ন দৌড় শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল, তৃণমূলের সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাই এখানে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
১. তৃণমূলের বার্তা: টিপুর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে তৃণমূলের অনুভূতির কথা এসেছে। আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এখন মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হতে পারে।
২. দায়িত্ব বনাম উচ্চাকাঙ্ক্ষা: জাতীয় নির্বাচনে সাংগঠনিক দুর্বলতা বা ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে সেটি মেয়র মনোনয়নের পথে বড় বাধা হতে পারে।
৩. দলীয় শুদ্ধি সংকেত: অনেকেই মনে করছেন, এটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশে একটি সতর্কবার্তা—দলীয় আনুগত্য ও মাঠপর্যায়ের কাজের প্রমাণ ছাড়া বড় পদ চাওয়া কঠিন হবে।
৪. অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা: নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বরাবরই প্রভাবশালী। তাই আগাম এই বার্তা দলীয় অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সব মিলিয়ে, টিপুর স্ট্যাটাস নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, তিনি সরাসরি কারও নাম নেন কি না, নাকি বিষয়টি দলীয় আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

