ফুল আর শুভেচ্ছা বিনিময় করেই কী রাজনীতির ইতি টানবেন টিপু?
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় এক পরিচিত মুখ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত হয়েছেন, একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের পতনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন টিপু। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পেলেও শুরুতে কিছুটা নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই মাঠে নামেন।
সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু। হাসিমুখে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার এই দৃশ্য আবারও আলোচনায় আসে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
তবে বিষয়টি ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ভিন্ন আলোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসা এই নেতার রাজনৈতিক ত্যাগ ও ভূমিকার তুলনায় তিনি এখনো তেমন কোনো বড় দায়িত্ব বা মূল্যায়ন পাননি। কঠিন সময়ে রাজপথে থাকা, মামলা-হামলা সহ্য করা এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পরও তার রাজনৈতিক অবস্থান যেন অনেকটাই স্থির হয়ে আছে—এমন মন্তব্যও করছেন কেউ কেউ।
নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, তাহলে কি টিপুর রাজনীতি কেবল অন্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি দল একসময় তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে টিপুর ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি সবসময় দলীয় শৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। দল যখন যে দায়িত্ব দেবে, তখনই তিনি তা পালনে প্রস্তুত—এমনটাই বলছেন তার অনুসারীরা।
তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন একটাই—দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা এই নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা কোন দিকে মোড় নেয়।

