জামিনের পর অপর মামলায় আইভীকে শোন এরেস্ট
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিদ্ধিরগঞ্জের আরও একটি হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে পুলিশ। গতকাল ২৬ ফেব্রোয়ারী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আইভীকে জামিন দিয়েছিলেন। এর পরপরই তাকে সিদ্ধিরগন্জের মামলাটিতে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হলো। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ১১ টি মামলা হলো।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে আইভীকে এই শ্যোন অ্যারেস্ট দেখায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নাম্বার ৪১। ২০২৪ সালের ৩০ জুন কৃষক ওয়াজেদ আলী বাদি হয়ে ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠিত সহিংসতার ঘটনায় আগুনে পুড়ে নিহত হন ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল। মামলাটি তদন্ত করছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাছুম বিল্লাহ। তিনি এই মামলায় তদন্তে সাবেক মেয়র আইভীর সম্পৃক্ততা থাকার তথ্য পেয়ে আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। বিষয়টি আদালত গ্রহণ করে আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, বর্তমানে আইভী কারাগারে থাকায় আদালতের নির্দেশে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই চিটাগাং রোড এলাকার ডার্চ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নীচতলায় অগ্নিসংযোগ ঘটে। এতে ব্যাংকের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত সেলিম মণ্ডলসহ তিন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলায় এবং সদর মডেল থানায় করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় জামিন পান।
এছড়া আইভীর বিরুদ্ধে ৫টি হত্যা মামলা আপিল ডিভিশনে শুনানির অপেক্ষায় আছে।
২০২৫ সালের ৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই সঙ্গে গত বছরের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছ

