অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ এখন কার্যত অটোরিকশা নির্ভর শহরে পরিণত হয়েছে। নগরজুড়ে চলমান সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং দীর্ঘ যানজটের প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
শহরের চাষাড়া, ২ নম্বর রেলগেট, খানপুর, ডিআইটি, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই দূরত্বে ভাড়া একেক সময় একেক রকম নেওয়া হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা দৃশ্যমান না থাকায় যাত্রীরা পড়ছেন অনিশ্চয়তায়।
যাত্রীদের অভিযোগ
মো. সাইফুল ইসলাম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, চাষাড়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, “আগে যেখানে ২০ থেকে ২৫ টাকায় যেতাম, এখন ৪০ টাকা দাবি করা হয়। জ্যাম ও রাস্তার কাজের অজুহাত দেখানো হয়।”
শারমিন আক্তার, দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা, সন্তানের স্কুলে যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একই রাস্তায় প্রতিদিন ভাড়া ভিন্ন ভিন্ন। মাসিক খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।”
রাকিব হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “স্টুডেন্ট বলে অনেক সময় বেশি ভাড়া চাওয়া হয়। বিকল্প পরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়ে দিতে হয়।”
চালকদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে চালকরাও নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
মো. জাহাঙ্গীর, খানপুর স্ট্যান্ডের চালক বলেন, “শহরের বেশিরভাগ সড়কে কাজ চলছে। জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আগে যত ট্রিপ দিতাম, এখন তার অর্ধেকও সম্ভব হয় না।”
সালাম মিয়া, চাষাড়া এলাকার চালক বলেন, “ব্যাটারি, সার্ভিসিংসহ খরচ বেড়েছে। আয় কমে গেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।”
তবে কয়েকজন চালক স্বীকার করেন, নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা না থাকায় অনেকেই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।
প্রশাসনিক নজরদারির দাবি
নগরবাসীর দাবি, রুটভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ ও তা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কমানো সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়বে।
একটি সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত ভাড়া কাঠামো এবং কার্যকর মনিটরিং এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

