“নির্বাচন শেষ, আন্দোলনও শেষ। ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা কর্মীদের প্রয়োজনও যেন শেষ।” এমন বক্তব্য ও আক্ষেপমিশ্রিত স্ট্যাটাস এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির অনেক ত্যাগী ও পুরোনো নেতাকর্মীদের ওয়ালে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে দেওয়া এসব স্ট্যাটাস ও মন্তব্যে দলীয় রাজনীতির বাস্তবতা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং নেতৃত্বের আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে ধরতে দেখা যাচ্ছে তাদের। অনেকেই লিখছেন, আন্দোলনের সময় যারা মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন অবহেলার শিকার বলে মনে করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়াটা নতুন কিছু নয়। বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচনকে ঘিরে তাদের প্রয়োজন বাড়লেও পরবর্তীতে অনেকেই নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেন।
তবে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে তা মূলত ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ। দলের ভেতরে বিভিন্ন সময় মতপার্থক্য বা অভিমান তৈরি হলেও তা আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্দোলন সংগ্রামে যারা সামনে থেকে ভূমিকা রাখেন, তাদের প্রত্যাশা পূরণ না হলে এমন অভিমান প্রকাশ পাওয়াটা স্বাভাবিক।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দলীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচিকে শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

