নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় মোহাম্মদ আরিফ নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুম প্রধান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা (খানপুর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ই মার্চ রোববার সন্ধ্যা ৭টায় মোহাম্মদ আরিফ তার বাসা থেকে বের হলে মাসুম প্রধান ও তার একদল অনুসারী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কাঠের বাট ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে আরিফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচণ্ড আঘাতে তার একটি হাত ভেঙে যায়।
আহত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আরিফের দাবি, মাসুম প্রধান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবসা করার জন্য তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এর আগেও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আরিফের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত রোববার সন্ধ্যায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা আরিফ জানান, “মাসুম প্রধান হুমকি দিয়ে বলেছেন—এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে। আমি আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে সে আমাকে ও আমার পরিবারকে এলাকাছাড়া করার এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, মাসুম প্রধান নিজেকে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে নিয়মিত চাঁদাবাজি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। এমনকি হামলার পর থানায় অভিযোগ না দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে অব্যাহতভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আহত ব্যবসায়ীর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা এই ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু বিচার, মাসুম প্রধানসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এলাকায় ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

