রাষ্ট্রপতি ‘চুপ্পু’ অপসারণ না করলে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে: এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন
নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন রাষ্ট্রপতি ‘চুপ্পু’কে ঘিরে চলমান বিতর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার ওই স্ট্যাটাস ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া স্ট্যাটাসে আল আমিন এমপি বলেন, বিষয়টি কেবল সাংবিধানিক নয়, বরং নৈতিকতারও প্রশ্ন। তার দাবি, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে দায়িত্বে থাকলেও তিনি অতীতের গণধিকৃত ফ্যাসিস্ট রেজিমের অংশ ছিলেন।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও তখন রাষ্ট্রপতিকে সরানোর প্রশ্নে সাংবিধানিক শূন্যতার যুক্তি সামনে আনা হয়েছিল। সে সময় সরকার, সংসদ ও স্পিকার না থাকায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে সরানো হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সাংবিধানিক শূন্যতা আর নেই বলে দাবি করেন আল আমিন। তিনি বলেন, এখন নির্বাচিত সংসদ রয়েছে এবং চাইলে সংসদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে এখন বিভিন্ন পাবলিক অনুষ্ঠানে সামনে আনা হচ্ছে এবং তাকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক স্পেস দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার পুরস্কারও তার হাত দিয়ে প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আল আমিন এমপি বলেন, বর্তমান সংসদ একটি ঐতিহাসিক সংসদ এবং এখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ ছিলেন। এমন একটি সংসদে অতীতের বিতর্কিত শাসনামলের রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সবশেষে তিনি রাষ্ট্রপতি ‘চুপ্পু’র অভিশংসন ও বিচার দাবি করে বলেন, গণতন্ত্র ও শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

