নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় দিনদুপুরে বাসায় চুরির ঘটনায় মামলা হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুইজন চোরকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এসময় চোরাই স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ মার্চ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাত চোরেরা মাসদাইর এলাকার শেরেবাংলা রোডের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলামের বাসার দরজার তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। সেখান থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ৮টি স্বর্ণের চেইন, একটি গলার হার, ৬টি স্বর্ণের আংটি, একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলসহ প্রায় ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১৩ মার্চ থানায় রুজু হয় (এফআইআর নং–৪৩) এবং এতে দণ্ডবিধির ৩৮০/৪৫৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশনায় এবং ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নানের তত্ত্বাবধানে পুলিশ অভিযান চালায়। মামলার দুই ঘণ্টার মধ্যেই সাব-ইন্সপেক্টর শামীম হোসেন, এসআই রফিক বিপিএমসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ১২ মার্চ দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে ফতুল্লার রহিম চৌধুরীর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে দুই আসামিকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পারভেজ (৪০), পিতা হাবিব, বাড়ি চৌরঙ্গপাড়া, বন্দর এবং মিয়াজ (২৯), পিতা আব্দুল কাদের, বাড়ি মাঝকান্দিরচর, মেহেন্দীগঞ্জ, বরিশাল। পারভেজ বর্তমানে ফতুল্লার রহিম চৌধুরীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
তাদের কাছ থেকে ৭টি চেইন, ২টি নেকলেস, ১টি ব্রেসলেট, ৪টি কানের দুলসহ মোট ৫ ভরি ১৪ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার, নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই পেশাদার চোর এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা বাসাবাড়ির তালা ভেঙে চুরি করার সঙ্গে জড়িত।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

