নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবনের লোহার পাইপ পড়ে পাঁচ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, ভবন মালিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় তাঁতীদল নেতা মধ্যস্থতা করে বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন।
আজ শুক্রবার সকালে দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত মুনতাসীর ইসলাম হামজা ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার মো. রুবেলের ছেলে।
পেশায় হকার রুবেল পরিবার নিয়ে দক্ষিণ সস্তাপুরের বুড়ির দোকান এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, নির্মাণাধীন একটি ভবনে পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। শুক্রবার ওই জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি লোহার পাইপ পড়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাবা রুবেল বলেন, ‘আমি কাজে কুমিল্লা ছিলাম, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে আসি। আমাকে বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্মাণাধীন ভবন মালিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করছেন জেলা তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল।’
রুবেল আরও বলেন, উজ্জ্বল ঠিকাদারের সঙ্গে মসজিদে বসেছিলেন। এলাকার আরও লোকজন ছিল। তারা আমাকে তিন লাখ টাকা দিতে চায়। আমি টাকা দিয়া কী করমু? আমার রাজপুত্রের মতো পোলাডাই যেইখানে নাই।’
তাঁতীদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল ভুক্তভোগী পরিবারটির প্রতিবেশী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘শিশুটির পরিবারের অনুরোধে আমি বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বসেছিলাম। পরিবারটাও গরিব। বাচ্চা তো আর ফেরত দেওয়া যাইব না। ঠিকাদার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।’
ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। এখানে ঠিকাদার ও ভবন মালিকের অবহেলা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মীমাংসার চেষ্টা বা টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়টি শুনিনি। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পোস্টমর্টেম করতে চাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

