চার দেয়ালের বন্দিজীবনেও যেন ঈদের আনন্দ মলিন না হয়, সে লক্ষ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নেওয়া হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বন্দিদের জন্য থাকছে উন্নত খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার ফোরকান মিয়া। তিনি জানান, এবারের ঈদে কারাগারে কোনো ভিআইপি বন্দি না থাকলেও সাধারণ বন্দিদের জন্য আয়োজনের কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।

ঈদের দিন সকালে কারাবন্দিরা কারাগারের ভেতরেই ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। নামাজ শেষে তাদের জন্য থাকবে সেমাই, পায়েস ও মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন। দুপুরের খাবারে থাকছে পোলাও, গরু, খাসি ও মুরগির মাংস, সঙ্গে মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস এবং পান-সুপারি। রাতের মেন্যুতেও থাকছে ভিন্নতা, পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, মাছ ও বিশেষ আলুর দম।
শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ নয় আয়োজন। ঈদের পরের দিন বন্দিদের জন্য রাখা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন, যাতে উৎসবের আমেজ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে টানা তিন দিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বন্দিকে দেওয়া হবে পাঁচ মিনিট করে বিনামূল্যে ফোনে কথা বলার সুযোগ, যা তাদের মানসিক স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
দর্শনার্থীদের কথাও ভেবে রাখা হয়েছে আলাদা আয়োজন। স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে চকলেট ও রঙিন বেলুন উপহার।
এদিকে, ঈদের দিন দায়িত্ব পালনের কারণে যারা বাড়ি যেতে পারবেন না, সেই কারাগারের স্টাফদের জন্যও উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জেল সুপার ফোরকান মিয়া বলেন, কারাগারের কঠোর পরিবেশের মধ্যেও বন্দিদের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারাও উৎসবের অংশ হতে পারেন।

