এক সময় বাবার সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিম বিক্রি করতেন—এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন ‘আন্ডা রফিক’ নামে। সেই সাধারণ ডিম বিক্রেতা থেকে জালিয়াতি ও পেশিশক্তির জোরে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক হয়ে ওঠেন শত শত কোটি টাকার মালিক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার সাম্রাজ্য বিস্তারের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সহযোগিতায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ‘রংধনু গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে রূপগঞ্জে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন।
জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, কায়েতপাড়ার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির কাছে বিক্রি করাই ছিল তার আয়ের মূল উৎস। ভুয়া দলিল তৈরি এবং একই জমি একাধিকবার বিক্রির মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিশেষ করে ২০২২ সালে ‘পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি’র কাছে সাড়ে সাত একর জমি বিক্রির পর একই বছরের জুনে সেই জমির একটি অংশ আবার ‘ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট’-এর কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠে, যা বড় ধরনের জালিয়াতির উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থ পাচারের অভিযোগ
শুধু জমি দখলই নয়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে জানা গেছে, ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় বিনিয়োগ করে তিনি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে সিআইডি তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে। আদালতের নির্দেশে তার ১৩টি ব্যাংক হিসাবের প্রায় ১৭ কোটি টাকা এবং যমুনা ফিউচার পার্কে থাকা প্রায় এক লাখ বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস ক্রোক করা হয়েছে।
ফের আতঙ্কে এলাকাবাসী
সরকার পতনের পর রফিক দেশ ছাড়ায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে সম্প্রতি পুলিশ পাহারায় এলাকায় তার ফেরার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় কায়েতপাড়াবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত এই অভিযুক্ত ভূমিদস্যুকে আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের জমি ও অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি সাবজেল হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে ওয়ারেন্টভুক্ত কোনো আসামিকে এভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হবে না, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

