নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেছেন, “আপনি অনেক পরিকল্পনার কথা বলেছেন, আপনার স্বপ্নও অনেক। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে সফলতার অনেক দূরত্ব। অনেকগুলো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে আগে মৌলিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। নারায়ণগঞ্জে হকার বসতে দেওয়া ঠিক হবে না। তাদের প্রতি আপনার সহানুভূতি থাকতে পারে, কিন্তু পুরো শহরে হকারদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। শহরটিকে হকারমুক্ত করতে পারলে ইনশাআল্লাহ নারায়ণগঞ্জবাসী আপনাকে মূল্যায়ন করবে।”
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
“বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির একটি ‘ভূত’ আছে”—মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু সমিতির নাম আছে, কিন্তু তাদের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। কিছু সাবেক কাউন্সিলরও এই ময়লা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। অবাক করার বিষয়, দুপুর ১২টা বা বিকেল ৩টার পর তারা গাড়ি নিয়ে মহল্লায় হাজির হয়। অথচ বর্জ্য সাধারণত রাতে অপসারণ করা উচিত। ঈদের আগের দিন বিকেল ৪টার দিকে আমি নিজেই মহল্লা থেকে একটি গাড়ি বের করে দিয়েছি। এরপর তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আর আসেনি। যাদের ঠিকাদারি দেওয়া হয়েছে, সেখানে দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট।”
মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “পরিবহন খাতে ‘মৌমিতা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন নেই, অথচ তারা মেট্রোসেবা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি আরও কয়েকটি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে, যাদের কোনো রুট পারমিট নেই। আপনাকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পরিবহন সেকশন, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে নেতৃত্ব দিতে হবে। আপনার সেই সক্ষমতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার সঠিকভাবে কাজ করলে সমস্যাগুলো সমাধান সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “বিকেএমইএ ও চেম্বার কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ঈদ বা রমজান এলেই বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়—এগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। সিটি করপোরেশনকে নেতৃত্বে থেকে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে, নাহলে সমাধান আসবে না।”
তিনি বলেন, “শামীম ওসমান হকার ও পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেখান থেকে চাঁদাবাজি হতো। এখন সেই অর্থ কারা পাচ্ছে, তা খুঁজে দেখা দরকার। আপনি বলেছেন কাউকে প্রশ্রয় দেবেন না—সেটা বজায় রাখতে হবে। প্রশ্রয় দিলে আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়—এই অর্থ কোথায় যায়, তা অনুসন্ধান করতে হবে। এদের শিকড় অনেক গভীরে। সেই জায়গা থেকেই আপনাকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই লড়াইয়ে আপনাকে জয়ী হতে হবে। আপনি হারলে নারায়ণগঞ্জবাসীও হারবে।”
উপস্থিত ছিলেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদাবাজি! নগর ব্যবস্থাপনায় বড় প্রশ্ন তুললেন মাসুম
লেখক: নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

