নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে হাম পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলার প্রধান হাসপাতালগুলোতে গুরুতর কোনো হাম রোগী ভর্তি নেই এবং টিকারও কোনো সংকট নেই।
গতকাল ৩০ মার্চ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে কোনো গুরুতর হাম রোগী আসেনি। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ শিশু চিকিৎসা নিতে আসলেও এর মধ্যে মাত্র ২-৩ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়, যাদের অবস্থা গুরুতর নয়।
সোমবার দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, সেখানে পাঁচজন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে ভূমি দাস (৬) নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শুরুর পর তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এছাড়া নূর মোহাম্মদ ইরাম (৫) হাম সন্দেহে ভর্তি হলেও পরে তাকে এলার্জি রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং সে বর্তমানে সুস্থতার পথে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, এখনো পর্যন্ত হাম বা রুবেলার কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। তবে সম্ভাব্য রোগীদের জন্য আইসোলেশন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কিছু টিকার (যেমন ওপিভি ও জলাতঙ্ক) সীমিত সংকট থাকলেও হাম, নিউমোনিয়া, টিটেনাস, যক্ষা, পোলিও ও পেন্টাসহ শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
অন্যদিকে খানপুরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. আবুল বাশার জানান, প্রতিদিন ৫০০-৬০০ শিশু চিকিৎসা নিলেও এর মধ্যে মাত্র ২-১ জন হামের রোগী আসে এবং তারা কেউই গুরুতর নয়। সম্ভাব্য রোগীদের জন্য চারটি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম বলেন, সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত টিকা কেন্দ্রগুলোতে কোনো টিকার সংকট নেই। হাম-রুবেলা টিকাও নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান জানান, জেলার কোনো সরকারি হাসপাতালেই এখনো হাম-রুবেলার রোগী ভর্তি হয়নি। সম্প্রতি ঢাকার দুটি শিশু হাসপাতালে মারা যাওয়া দুই শিশুর ঠিকানা রূপগঞ্জের চনপাড়া ও মুড়াপাড়া হলেও তারা নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা নয়। সতর্কতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলায় টিকার কোনো সংকট না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে হামের অতিরিক্ত টিকাদান ক্যাম্পেইন বন্ধ ছিল।
শরীফউদ্দিন সবুজ
নারায়ণগঞ্জ টিভি

