পার্থের বক্তব্যের জবাবে গণভোটের কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিশ্লেষণ
সংবাদ:
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ১৯৭২ সালের সংবিধান ও গণভোটের কাঠামো নিয়ে তার উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সাবেক ১নং যুগ্ম সদস্য সচিব আদনান তাহসান।
আদনান তাহসান বলেন, সংবিধান প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে বিরোধী পক্ষকে লক্ষ্য করে পরোক্ষ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কিছু দলকেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সমালোচনা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণভোট প্রসঙ্গে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ইতিহাসে ১৯৭৭ সালের গণভোটের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে একক প্রশ্নের ভিত্তিতে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হয়েছে। সেখানে একাধিক নীতির উপর আলাদা আলাদা মত দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও গণভোট সাধারণত ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভিত্তিক হয়ে থাকে। একাধিক প্রশ্নে পৃথকভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ সচরাচর থাকে না।
বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের উদাহরণ তুলে ধরে আদনান তাহসান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বহু দফা থাকলেও জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সামগ্রিক সিদ্ধান্তই দিয়ে থাকে। গণভোটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাস্তবতা প্রযোজ্য।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব আরও বলেন, গণভোটের প্রশ্ন, অধ্যাদেশ কিংবা জুলাই সনদ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা নির্বাচনের আগেই তোলা উচিত ছিল। গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পর এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয় না।
তিনি বলেন, “গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। এখন সেই গণরায়কে সম্মান জানিয়ে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়াই সময়ের দাবি।”
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

