আসন্ন এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মাসদাইর এলাকার দুই তরুণ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী—ইয়াসিন আরাফাত ও জোবায়ের সরদার। তরুণ নেতৃত্বের এই দুই মুখকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
ইয়াসিন আরাফাত ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিত। তরুণ এই নেতার পরিচিতি মূলত মাঠভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণদের সংগঠিত করার উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা যুবদলের আহবায়ক মশিউর রহমান রনির ভাগ্নে হওয়ায় রাজনৈতিক পরিবার থেকেও একটি পরিচিতি বহন করছেন। স্থানীয়দের মতে, তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং তিনি একটি সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে জোবায়ের সরদার বর্তমানে এনসিপির জেলা আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির শুরুটা ছাত্রলীগের সঙ্গে হলেও পরবর্তীতে দল পরিবর্তন করে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি। নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আলোচনায় আসেন, বিশেষ করে নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে সক্রিয় ও সামনের সারির নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে। তার এই সক্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মাসদাইর এলাকা থেকে এই দুই তরুণের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়া এনায়েতনগরের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের আধিপত্য থাকা এই এলাকায় তরুণ নেতৃত্বের উত্থানকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে তাদের নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে তরুণ এই দুই প্রার্থীর সমর্থকরাও বসে নেই। ইতোমধ্যে তাদের সমর্থকরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। পোস্টার, ব্যানার, ভিডিও বার্তা ও বিভিন্ন প্রচারমূলক কনটেন্টের মাধ্যমে তারা নিজ নিজ প্রার্থীকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ধরনের প্রচারণা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন, স্থানীয় প্রভাব এবং ভোটারদের আস্থা—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে কে এগিয়ে থাকবেন।
সব মিলিয়ে, মাসদাইর থেকে উঠে আসা ইয়াসিন আরাফাত ও জোবায়ের সরদারকে ঘিরে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাঠ ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই দুই তরুণের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থা অর্জন করে চেয়ারম্যান পদে এগিয়ে যেতে পারেন।

