নিউজ ডেস্ক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিজের নাম আসায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন এবং পরে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
রোববার ১২ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা। সংঘর্ষে তার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সারজিল আহম্মেদ অভি, আব্দুল হামিদ প্রধান, আব্দুস সালাম, আকাশ, সুমন মোল্লা রকেট, খায়রুল কবির জসিম, ইয়াসিন, মশিউর রহমান রনি, আলী রতন, মুরাদ হাসান, আদনান আজিজ প্রাপ্ত ও পল্লব। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় রনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘুমে ছিলেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফোন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবুও তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা তার মতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও দাবি করেন, গত নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একটি মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। দলীয় প্রচারণায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করায় তিনি টার্গেট হয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, কিছু ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তাকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।
রনি অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সময় তাকে গুমের চেষ্টা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবুও তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি এবং এখনও কোনো ষড়যন্ত্রে ভীত নন।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, তিনি কখনো সন্ত্রাসে জড়িত নন, বরং সবসময় এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।
ফতুল্লার এই সংঘর্ষ ও মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়।

