দেড় ঘণ্টার অভিযানে ৫০ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, “মাসোহারা দিলে রেহাই”—বলছে এলাকাবাসী
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তিতাস গ্যাসের একটি আকস্মিক অভিযানকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আউল্লাবন ও ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে একদিকে যেমন অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের দাবি করা হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ—এটি ছিল বাছাই করে পরিচালিত ‘টার্গেটেড অ্যাকশন’।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আজাদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রথমে আউল্লাবন এলাকায় প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান চালানোর পর দলটি হঠাৎ করেই ভূমিপল্লী এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করে চলে যায়।
অভিযানে বকেয়া ও অবৈধ সংযোগ মিলিয়ে প্রায় ৫০টি লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ভূমিপল্লীর বাসিন্দারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুলার নামে নিয়মিত টাকা আদায় করা হচ্ছে। যেসব ভবন মালিক মাসোহারা দিচ্ছেন, সেসব ভবনে অভিযান হয় না। বরং যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের বাসাগুলোকেই টার্গেট করা হয়েছে।
একাধিক বাসিন্দার দাবি, “তিতাসের নাম ভাঙিয়ে প্রতি ছয় মাসে টাকা নেওয়া হচ্ছে।” এ সময় উপস্থিত ডিজিএম মনজুরুল আজিম মোহন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বৈধ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা না দিলে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়।
সূত্রগুলো বলছে, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কিছু এলাকায় এ ধরনের অনিয়ম বেড়েছে। গোপনে অভিযান চালিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও সামনে আসছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, সংবাদকর্মীরা উপস্থিত থাকলে অনিয়ম প্রকাশ পেতে পারে বলেই এমন আচরণ করা হয়।
তবে তিতাস গ্যাসের ডিজিএম মনজুরুল আজিম মোহন দাবি করেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযানের ধরন ও অভিযোগগুলো নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

