নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কার্যকর কোনো সমাধান নয় বরং লোক দেখানো উচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন করে চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, একদিকে ফুটপাতে হকার বসার কোনো আইনগত বৈধতা নেই বলে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে আগে ৬৭২ জন হকারকে দলিলের মাধ্যমে বরাদ্দ দিয়েছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ফলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য।
তারা আরও অভিযোগ করেন, অতীতেও রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অপতৎপরতা, প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির কারণে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ফুটপাত অবশ্যই পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। তবে তার আগে হকারদের জন্য টেকসই ও ফলপ্রসূ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেকেই জীবিকার তাগিদে হকারি পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। তাই এই শ্রেণিকে উপেক্ষা করে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
যানজট প্রসঙ্গে তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক দখল এবং অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচলই মূল সমস্যা। বিশেষ করে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের বাস কাউন্টারগুলো শহরের ভেতরে থাকায় যানজট তীব্র হচ্ছে। এসব কাউন্টার শহরের বাইরে সরানো না হলে যানজট নিরসন সম্ভব নয়।
এছাড়া লাইসেন্সবিহীন বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদেরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সংগঠক আদনান তাহসান, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

