আলোচিত সেই “সেভেন মার্ডার” ঘটনার নাম উচ্চারিত হলেই এখনো অনেকের মনে ভেসে ওঠে নারায়ণগঞ্জের একটি নেতিবাচক চিত্র। একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই শহর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে নারায়ণগঞ্জ যেন অপরাধপ্রবণ একটি শহরের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দিন, মাস, বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারহীনতার হতাশা থেকেই যাচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার মিলবে?
স্থানীয়দের মতে, যখনই নারায়ণগঞ্জ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তখনই কোনো না কোনো অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দুর্বল জবাবদিহিতার কারণে বড় অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যায়, যা নতুন করে অপরাধের পথ তৈরি করে।
এই সাত খুনের ঘটনা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার হলে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।
এ ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা পরিকল্পনা করেছে, যারা বাস্তবায়ন করেছে এবং যারা আড়াল করার চেষ্টা করেছে, সবার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জাতীয় যুবশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের নেতা আদনান তাহসান বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের বিচার শুধু সাতটি পরিবারের ন্যায়বিচার নয়, এটি পুরো জাতির ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।”

