নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর নির্যাতন ও পারিবারিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মোসাদ্দেকা পাপড়ি (১৪) নামে এক কিশোরী গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নের গঙ্গারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
নিহত মোসাদ্দেকা পাপড়ি ওই এলাকার আলী আহম্মদের মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে একই এলাকার আপন চাচাতো ভাই দিদারের সঙ্গে পাপড়ির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের দাদি রফিজা বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি ও পাপড়ি বাড়িতে ছিলেন। বিকেলে পাপড়ি দোতলার একটি কক্ষে যান। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হলে চিৎকার দেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাপড়ির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

