নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে ভাঙচুর ও মহাসড়কে নাশকতার মামলার প্রধান আসামি হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেন গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভায় ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে নারীসহ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁও এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন মাওলানা ইকবাল হোসেন। পরে র্যাব-১১ রাজধানীর জুরাইন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা শাহজাহান শিবলী ও মাওলানা মোয়াজ্জেমকেও আটক করা হয় এবং তাদের সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ আছে ঐ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্ন আলেম ওলামার তথ্য দিয়ে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখেন হেফাজতে নেতা ফেরদাউসুর রহমান।
মাওলানা ইকবাল হোসেন সোনারগাঁও উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহ-সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের স্থানীয় সভাপতি ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ২০২১ সালের ২০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমেলা সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সভায় জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ দাবি করেন, ২০২১ সালে র্যাব-১১ এর অভিযানে অর্থের বিনিময়ে তথ্য দিয়ে মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ অর্ধশত আলেমকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছিলেন ফেরদাউসুর রহমান। ওই তালিকায় মাওলানা ইকবাল হোসেনও ছিলেন বলে ইঙ্গিত করা হয়।
সভায় আরও অভিযোগ করা হয়, ফেরদাউসুর রহমান সংগঠনের ভেতরে বিভক্তি সৃষ্টি, নির্বাচনী অনিয়ম এবং বিরোধী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগে জড়িত ছিলেন। তবে তার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের জোরালো জবাব পাওয়া যায়নি বলে সভা-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালে দেশজুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার জেরে হেফাজতে ইসলামের বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক অভিযোগের পর সেই সময়ের গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

