❝নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সকল হত্যাকাণ্ডের সাথে ওসমান পরিবারের সংশ্লিষ্টতা ছিলো❞
এমপি অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল আমিন
নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ও বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে আইনজীবীরা খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বিগত সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সাত খুন মামলার অন্যতম ভিকটিম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার-এর সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন,
“অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার নিজের বিবেক ও পেশাদার দায়িত্ববোধ থেকে অপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সততা ও সাহসিকতার কারণেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।”
তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন,
“সাখাওয়াত হোসেন-এর নেতৃত্বে আইনজীবীরা ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে ভিকটিম পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আলোচিত অপরাধ প্রসঙ্গে বলেন, ত্বকী হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সাত খুন মামলাসহ অধিকাংশ আলোচিত ঘটনায় ওসমান পরিবারের সংশ্লিষ্টতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
সবশেষে তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং ন্যায়ের পক্ষে সকল আন্দোলনে তিনি আইনজীবীদের পাশে থাকবেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন।

