ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ফরহাদ হোসাইন এক বিবৃতিতে বলেন, উৎসব–বন্ধন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে অদৃশ্য পরিবহন মাফিয়ার মতো আচরণ করে তারা বারবার ঠুনকো অজুহাতে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে আসছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই রুটে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের ভাড়া একসময় ছিল ৩০ টাকা। ফ্লাইওভার চালুর পর তা ৬ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে ধাপে ধাপে ভাড়া বাড়িয়ে সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৫৫ টাকায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু তেলের দাম কমলেও ভাড়া আর কমানো হয়নি।
নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের মুখে ৫ টাকা কমানো হলেও পরে আবার একই অজুহাতে তা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং জনগণের উপর জুলুমের শামিল।
তারা আরও বলেন, গত ২৩ এপ্রিল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার গণপরিবহনের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে, যেখানে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়, যা মোট ভাড়ার ৫.১৯ শতাংশ। সে অনুযায়ী ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে সর্বোচ্চ ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ার কথা ২ টাকা ১৮ পয়সা। অথচ বাস্তবে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
তাদের হিসেব অনুযায়ী ১৮ কিলোমিটার ধরলে ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ টাকা ৯৮ পয়সা। কিন্তু পরিবহন মালিকরা ৫৫ টাকা আদায় করে অতিরিক্ত ২ টাকা ৮২ পয়সা কিংবা তাদের হিসাবে ৩ টাকা ২ পয়সা বেশি নিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, পরিবহন মালিকরা জনগণের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ভাড়া নির্ধারণ করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতারা অবিলম্বে এই অযৌক্তিক বাস ভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

