নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বিস্তারের লক্ষ্যে এনায়েতনগর, কাশিপুর ও ফতুল্লাসহ মোট ৯টি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নারায়ণগঞ্জ সিটির আয়তন ও জনসংখ্যা উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সিটিতে যুক্ত হতে যাওয়া ৯টি ইউনিয়ন
এনায়েতনগর
কাশিপুর
ফতুল্লা
কুতুবপুর
বন্দর
মুছাপুর
গোগনগর
আলীরটেক
কলাগাছিয়া
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশনের সীমানায় কোনো ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা তাঁদের পদ হারাবেন এবং ভবিষ্যতে এই এলাকাগুলোতে আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে না।
“আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এখন শুনছি ইউনিয়নই থাকবে না — এই অনিশ্চয়তা সহ্য করা যাচ্ছে না।”
— সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ফতুল্লা ইউনিয়ন
এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা। অনেকে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ করে আসছিলেন, অর্থ ও সময় বিনিয়োগ করেছেন। সিটিতে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণায় তাঁদের সব পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
❓ চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের যত প্রশ্ন
ইউনিয়ন পরিষদ বিলুপ্ত হলে বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কি ক্ষতিপূরণ পাবেন?
যাঁরা নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যে অর্থ ব্যয় করেছেন, তাঁদের কী হবে?
নতুন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে কি তাঁরা অংশ নিতে পারবেন?
সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণের মতামত নেওয়া হবে কি?
গেজেট প্রকাশের পর কতদিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ বিলুপ্ত হবে?
স্থানীয় সরকার আইন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ সেলিম জানান, সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্ত হলে সেখানে নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হবে। সেই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনে আগের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন। তবে সেই নির্বাচনের নিয়মকানুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে ভিন্ন হবে।
ফতুল্লা এলাকার বাসিন্দারা অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসলে পয়ঃনিষ্কাশন, সড়ক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। তবে একই সঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির আশঙ্কাও তাঁদের মধ্যে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্তির পর সিটির ওয়ার্ড সংখ্যা বর্তমান ২৭ থেকে বেড়ে ৩৬ থেকে ৪০-এ দাঁড়াতে পারে। তিনি আরও জানান, অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।

