নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজীব (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয় দিতেন। তবে সংগঠনে তাঁর কোনো পদ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা আরেকটি মামলায় রাজীবসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন রাসেল, টিটু ও লাবনী। ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক রফিক জানান, ওই মামলায় লাবনীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, তিনি ও তাঁর চাচাতো বোন লাবনীর সঙ্গে একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে লাবনী তাঁদের রাজীব ও রাসেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব দিতেন। পরে লাবনীর সাবেক স্বামী টিটুসহ রাজীব ও রাসেল বাসায় যাতায়াত শুরু করেন এবং একই ধরনের প্রস্তাব দেন।
ওই নারীর অভিযোগ, এসব প্রস্তাবে বিরক্ত হয়ে বাসা ছাড়ার কথা জানালে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। গত ১৮ অক্টোবর ভাড়া পরিশোধ করে তাঁরা অন্যত্র আশ্রয় নেন। সেদিন বিকেলে জামাকাপড় আনতে গেলে লাবনী ও টিটু তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন। অন্যদিকে রাজীব ও রাসেল তাঁর চাচাতো বোনকেও ধরে এনে আটকে রাখেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ১৯ অক্টোবর দুপুরে তাঁদের দুজনকে রাজীবের একটি ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই নারীকে আটকে রেখে রাজীব ধর্ষণ করেন। একই সময়ে তাঁর চাচাতো বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রাসেল। ব্যর্থ হয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর চাচাতো বোনের স্বামীকে ফোন করে আরও ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মিথ্যা বক্তব্য লিখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাজীবের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘রাজীব একসময় আওয়ামী লীগ করতো। ইদানীং সে বিএনপির সাথে ঘেঁষা শুরু করেছে। তবে তার কোনো পদপদবি আমরা পাইনি।’

