নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মাসদাইরে অবস্থিত সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধাঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় এসএসসি ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেনীকক্ষগুলো ৪০ মিনিটের বেশী সময় ধরে অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল।
স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মোমবাতি সরবরাহ করলেও সেটি ছিল অপ্রতুল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিরুপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীদের বিলম্ব হওয়া এবং গাছ পড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরীক্ষাটি ১৫ মিনিট পরে শুরু হলে শেষে ১৫ মিনিট বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পরীক্ষাকেন্দ্রে আদর্শ স্কুল, হরিহরপাড়া হাই স্কুল, পুলিশ লাইনস স্কুল, বেগম রোকেয়া খন্দকার উচ্চ বিদ্যালয়, এরিবস ইন্টারন্যাশনালের স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। অন্যান্য দিনের মতোন আজও সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষা শুরু হতে ৩০-৪০ মিনিট দেরি হয় বলে অভিযোগ করেন পরীক্ষার্থীরা।
শারমীন খন্দকার নামের আরেক অভিভাবক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় খাতায় রেজিস্ট্রেশন, রোল নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখতে কাঁটাছেড়া করে। এর ফলে এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।
হাফিজুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় কিছু কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। আর কিছু কক্ষে মোমবাতি না দেওয়ায় অন্ধকারেই তাদের বেশ কিছুক্ষণ পরীক্ষা দিতে হয়।
অভিভাবক হামিদুর রহমান বলেন, কোনো কক্ষে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও কিছু কক্ষে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। এর ফলে ফলাফল বিপর্যয়ের শঙ্কা করছি আমরা।
তবে ভিন্নমত পোষণ করে নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ৪০ মিনিট পরীক্ষা বন্ধ ছিল তথ্যটি সঠিক নয়। বিরুপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীদের বিলম্ব হওয়া এবং গাছ পড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ ছিল না।
সেজন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজের উপস্থিতিতে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হয়। পরে শুরু হলে শেষে ১৫ মিনিট বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে আমাদের কোনো ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ছিল না।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি আমি অবগত রয়েছি। তবে পরীক্ষা দেরি করে শুরু করার অনুমতি দেওয়ার আমার কোনো এখতিয়ার নেই। তারা কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। আর লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুতের সমস্যা হয়নি, মূলত বিরুপ আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: রায়হান কবির বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

