নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের এক নেতাকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত এগারোটার দিকে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের পাইসকা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে একটি ওয়াজ মাহফিলের অতিথি তালিকায় নাম দেওয়া-না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ হয়। ওই বিরোধের জেরে দুইপক্ষের মধ্যে গতরাতে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর এই খুনের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম রিপন মিয়া। তিনি ওই এলাকার শহীদুল্লাহ’র ছেলে।
রিপন ভোলাব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন, বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জের ওই এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের অনুসারীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কয়েকদিন আগে এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে অতিথি তালিকায় নাম দেওয়া নিয়ে এ দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাড়ে। এরই জেরে রোববার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
রাতেই রিপন মিয়াকে প্রতিপক্ষের লোকজন ধাওয়া দেয় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে বলে জানান রূপগঞ্জের ওসি সালাউদ্দিন।
নিহতের কন্যা শিলা বলেন, “স্থানীয় রিফাত কাজী, সারোয়ার, তানভীর কাজীসহ আরো কয়েকজন আমার বাবারে কুপিয়ে মারছে। তাদের সাথে আগের থেকেই শত্রুতা ছিল। বাবারে দৌড়ানি দিয়া পরে কোপাইছে।”
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন বলেন, “স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্যের বিরোধের জেরে এই খুন হয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে আগেও দ্বন্দ্ব ছিল এবং সম্প্রতি একটি ওয়াজ মাহফিলকে ঘিরে দ্বন্দ্ব আরো বাড়ে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও এ বিষয়ে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।”
তবে, সোমবার বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা বা জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হননি। ওসি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে আইনগতভাবে পরবর্তী প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: প্রেস নারায়ণগঞ্জ

