জুলাইয়ের রক্তঝরা দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত ১০টি হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের (চার্জ গঠন) শুনানি শেষ হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট এই তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়। সেই সময়ে চালানো গুলিবর্ষণ ও সশস্ত্র হামলায় ১০ জন প্রাণ হারান। এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে মূল নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে শামীম ওসমানের নাম উঠে এসেছে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে।
শামীম ওসমানের পাশাপাশি এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্যর মধ্যে রয়েছে ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমান। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৯ জন নেতা-কর্মীকে এই ১০ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববারের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পাহাড় তুলে ধরে অবিলম্বে বিচার শুরুর আর্জি জানায়। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের বক্তব্য গ্রহণ করে আসামিপক্ষের যুক্তি শোনার জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। ওইদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। এরপরই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করা হবে কি না।
জুলাই বিপ্লবের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাচি হেড লাইন দিয়ে সাজায় দাও

