নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই দুটি প্রভাবশালী ধারার অস্তিত্ব দেখা যায়। একদিকে সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, অন্যদিকে শামীম ওসমান ও তার রাজনৈতিক বলয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ও নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে।
সম্প্রতি আইভীর মুক্তির পর নারায়ণগঞ্জে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল এবং স্থানীয় পর্যায়ে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আইভীর মুক্তিতে কি শামীম ওসমানপন্থীরা অস্বস্তিতে পড়েছেন?
সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, প্রতিপক্ষের নীরবতা
আইভীর মুক্তির পর তার সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট, ছবি ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তার মুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে, শামীম ওসমানপন্থী নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে তীব্র কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো দেখা যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতাও একটি রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে।
কেন আলোচনায় “রাগ” প্রসঙ্গ?
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আইভী ও ওসমান পরিবারের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। বিভিন্ন সময় স্থানীয় নির্বাচন, উন্নয়ন প্রকল্প, দলীয় নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন ছিল। ফলে আইভীর রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠা অনেকের কাছে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “রাগ” শব্দটি হয়তো অতিরঞ্জিত। বরং বিষয়টি ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। কারণ আইভী এখনো নারায়ণগঞ্জের একটি বড় অংশের কাছে জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ হিসেবে বিবেচিত।
সামনে কী হতে পারে?
আইভীর মুক্তির পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা সক্রিয় হয় এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি কী ভূমিকা নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে ওসমান পরিবারের অবস্থান ও কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অতীতে যেমন ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব ছিল, তেমনি আগামী দিনেও আইভী ও শামীম ওসমান বলয়ের সম্পর্ক রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইভীর মুক্তিতে শামীম ওসমান শিবির “রাগ করেছে” এমন কোনো প্রকাশ্য বা নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটুকু স্পষ্ট, আইভীর প্রত্যাবর্তন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে এটি ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার প্রশ্ন হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

