রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাড়ির দরজার সামনে গ্রাম থেকে আসা দুই বোনের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুর এসে ছিনতাই করতো। এ ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (৩ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম এসব তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলো- জুয়েল ওরফে আরিফ ও আনোয়ার হোসেন। পুলিশ জানায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এই চক্র জড়িত। তারা বেশ কয়েক দিন যাবৎ গাড়ি নিয়ে এসে ছিনতাই করতো। দুই নারী থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ, চাপাতি ও ছিনতাই হওয়া কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ফজলুল করিম জানান, গত ৩১ মে ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় বাসার সামনে মালামাল নিয়ে নামার পর একটি পিকআপে করে আসা তিন ব্যক্তি তাঁদের চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে একটি ট্রলি ব্যাগ, একটি হ্যান্ডব্যাগ ও আরও একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে ভুক্তভোগী এক নারী মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।
এডিসি ফজলুল করিম বলেন, মামলার তদন্তে নেমে প্রথমে জুয়েল নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে ছিনতাই হওয়া ব্যাগ পিকআপে তুলতে দেখা যায়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পরবর্তীতে আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক ও মালিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। মোহাম্মদপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও ভোরে যাত্রী নামার স্থানগুলোতে মোবাইল ও টহল দল সক্রিয় রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

