নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইʼর অভিযোগের তদন্তে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকারীরা পুলিশের একটি শটগান লুট করে বলেও এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১ মে) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। এ ঘটনায় বন্দর থানার সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন আহত হয়েছেন। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা তারেক। পরে বন্দর থানা পুলিশের অপর একটি দল অভিযান চালিয়ে চার ঘন্টা পর সকাল সোয়া ছয়টার দিকে একই এলাকার একটি গাছের নিচ থেকে লুট হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, রাতে তিনজন যুবক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে টহলে থাকা এএসআই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি টিম প্রাথমিক তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে যায়। “পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে ১০ থেকে ১৫ জন ছিনতাইকারী দল ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। এতে কনস্টেবল ফয়সাল ও এএসআই সোহেল রানা গুরুতর জখম হন।” পরে পুলিশের আরেকটি দল খবর পেয়ে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে কনস্টেবল ফয়সালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটকের কথা জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী।
তিনি বলেন, “অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।” তবে, বেলা একটা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ শহরের নিতাইগঞ্জে নগরভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উপর পুলিশের পোশাক পরা এক সদস্যের মোটরসাইকেল থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে তার সরকারি পিস্তলটি ছিনতাই করে তিনজন যুবক। যদিও পরে অস্ত্রটি উদ্ধার ও জড়িত হিসেবে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার এক সপ্তাহ না পেরোতেই ১৫ মার্চ শহরের উকিলপাড়া রেললাইনে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক বিক্রেতাদের মারধরের শিকার হন রেল পুলিশের দুʼজন সদস্য।

