নিজেদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তবে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের উস্কানি, অংশগ্রহণ এবং নাশকতার চেষ্টার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে সব শ্রমিককে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে দমন করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন।
শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি-দাওয়াকে সামনে রেখে চলমান আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি এবং রাজনৈতিক উস্কানি ও নাশকতার প্রচেষ্টাকে পৃথকভাবে বিবেচনা করে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি ও শিল্প মালিকদের সঙ্গে নিয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ দেশকে অস্থিতিশীল করা কিংবা দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদেরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তাদের ন্যায্য আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।
তবে শুধু আওয়ামী লীগের ওপর আন্দোলনের দায় চাপিয়ে প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষা করলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন আব্দুল্লাহ আল আমীন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং আন্দোলনে রাজনৈতিক উস্কানি ও নাশকতার প্রচেষ্টা প্রতিরোধ, উভয় বিষয়েই সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শিল্প খাত, শ্রমিক এবং সামগ্রিক অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও।
তিনি বলেন, সরকার, শ্রমিক ও শিল্প মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব। সময়ক্ষেপণ না করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, দুটিই জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
আব্দুল্লাহ আল আমীন
সংসদ সদস্য
নারায়ণগঞ্জ-৪

