নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন-এর নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এক ভয়াবহ হামলা ও একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পরপরই এলাকা ঘিরে তুলনা শুরু হয়েছে দেশের আলোচিত অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত “জঙ্গল সলিমপুর”-এর সঙ্গে।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় একটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, এক নারীকে শ্লীলতাহানি এবং একই পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠছে, কুতুবপুর কি ধীরে ধীরে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে যেখানে অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যেমনটি অতীতে আলোচিত হয়েছে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়।
পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কঠোর বার্তা
ঘটনার পর বুধবার (১০ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে তিনি অভিযুক্ত শাহজাহান ও আলী আরশাদ বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং কুতুবপুরেও শিগগির বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের উদ্দেশে এখনও সময় আছে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার, না হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও নিরাপত্তা শঙ্কা
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের পরপরই এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
প্রশাসনের অবস্থান
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

