মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের এক যুবদল নেতা ও এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। দুর্ঘটনার খবর জাতীয় গণমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তবে নিহত দুই নেতার জানাজায় দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও সিনিয়র নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দলের জন্য দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা এসব কর্মী-নেতার শেষ বিদায়ে দলীয় নেতৃত্বের আরও বেশি উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল।
জানাজায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতাকর্মী বলেন, দলের দুঃসময়ে এবং আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সামনে থেকে ভূমিকা রাখেন, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি নেতৃত্বের দায়িত্বের অংশ। কিন্তু এমন শোকাবহ মুহূর্তেও অনেক পরিচিত মুখকে দেখা যায়নি, যা তৃণমূলের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তাদের মতে, রাজনীতিতে পদ-পদবির চেয়ে মানবিক সম্পর্ক ও সহমর্মিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মী যখন দলের জন্য নিজের সময়, শ্রম ও ঝুঁকি ব্যয় করেন, তখন তার বিপদে কিংবা মৃত্যুর পর পাশে দাঁড়ানোও নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি কারা প্রকৃত অর্থে আন্তরিক এবং কারা কেবল রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার রাজনীতি করেন, এ ঘটনা সেই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের আবেগ ও প্রত্যাশার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দিলে সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শোকাহত নেতাকর্মীরা মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
আল্লাহ মরহুমদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

