নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, যা আমলাপাড়া গার্লস স্কুল হিসেবেও পরিচিত, সেখানে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দলাদলি ও দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষা ও ফলাফলের মান নিম্নমুখী হয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নতুন এডহক কমিটির অনুমোদনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ কিছু কঠোর ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
তিনি জানান, শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা পাঞ্চ মেশিন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাস কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৩০টি সিসি ক্যামেরা এবং পুরো প্রতিষ্ঠানজুড়ে সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে বসানো হয়েছে ২৬টি ঘড়ি।
গত ২৭ এপ্রিল প্রথম পরিচালনা কমিটির সভায় শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়ন ও ফলাফলের মান বৃদ্ধিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৯ এপ্রিল ৫৫ জন শিক্ষক ও স্টাফকে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টার দীর্ঘ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সবার বক্তব্য শোনার মাধ্যমে শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ দূর করে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ১০টি কম্পিউটার কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ল্যাব রুম, নামাজ রুম ও ক্যান্টিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোট শিশুদের জন্য প্লে ক্লাসে ১০ হাজার টাকার খেলাধুলার সামগ্রীও সরবরাহ করা হয়েছে।
সভাপতি টিপু অভিযোগ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও দলাদলি বন্ধ করায় একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “যতই অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র হোক, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। প্রতিষ্ঠানের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, কোনো বাধা বা ষড়যন্ত্রেই তিনি পিছপা হবেন না এবং প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

