নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকা একসময় ঈদুল আজহার আগে ভিন্ন এক উৎসবের আবহে মেতে উঠতো। আর সেই আবহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন প্রয়াত এস এম সেলিম, যিনি স্থানীয়দের কাছে “টাওয়ার সেলিম” নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। বিশাল আকৃতির কোরবানীর উট এনে এলাকায় হৈচৈ ফেলে দেওয়া ছিল যেন তার এক ধরনের পরিচয়।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে মাসদাইর এলাকায় টাওয়ার সেলিম ছিলেন বেশ পরিচিত একটি নাম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার পরিচিতি বাড়তে থাকে। স্থানীয়ভাবে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান–এর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা পাঁচ বছরজুড়ে মাসদাইর ও আশপাশের এলাকায় তার প্রভাব ও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে রাজনীতির পাশাপাশি টাওয়ার সেলিমকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের বড় কারণ ছিল তার ব্যতিক্রমী কোরবানীর আয়োজন। একবার ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে বিশাল আকৃতির উট নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করলেন তিনি। মরুর জাহাজ উট সেবারই প্রথম দেখলো মাসদাইরবাসী। সেই সময় মাসদাইরের রাস্তায় মানুষের ঢল নামলো উট দেখতে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও ভিড় করতেন এক নজর উট দেখার জন্য।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, সে সময় নারায়ণগঞ্জে কোরবানীর জন্য উট আনা খুব একটা প্রচলিত ছিল না। তাই টাওয়ার সেলিমের আনা উট ছিল মানুষের কাছে বাড়তি আকর্ষণ। অনেকে পরিবার নিয়ে উট দেখতে যেতেন। কেউ ছবি তুলতেন, কেউ আবার বিস্ময় নিয়ে দেখতেন বিশাল দেহের প্রাণীগুলো।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেন, টাওয়ার সেলিম ছিলেন আড়ম্বরপ্রিয় মানুষ। নিজের অবস্থান ও প্রভাব জানান দিতে তিনি ভিন্নধর্মী আয়োজন পছন্দ করতেন। আর কোরবানীর উট ছিল সেই আয়োজনেরই অংশ। তবে এসব আয়োজনের মধ্য দিয়েই তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠেন।
সময়ের পরিক্রমায় বদলে গেছে মাসদাইর, বদলে গেছে এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশও। কিন্তু এখনো ঈদ এলে অনেক পুরোনো বাসিন্দার স্মৃতিতে ফিরে আসে “টাওয়ার সেলিমের উট”। নতুন প্রজন্মের কাছেও এটি হয়ে উঠেছে এক সময়ের আলোচিত গল্প।
স্থানীয়দের মতে, মাসদাইরের ইতিহাসে টাওয়ার সেলিম ছিলেন এক আলোচিত চরিত্র, যাকে ঘিরে এখনও নানা স্মৃতি ও গল্প ছড়িয়ে আছে মানুষের মুখে মুখে।

