নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা ছিল, ফতুল্লা, কাশিপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এলাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনা হবে। তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক ঘোষণায় দেখা গেছে, এই তিন ইউনিয়নের কেবল আংশিক এলাকা নিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে।
এ ঘোষণার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এসব এলাকার মানুষ আশা করেছিলেন, সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলে উন্নত সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি ও অন্যান্য আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে। কিন্তু আংশিক অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত সেই প্রত্যাশায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলগুলোকে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে রাখার পেছনে অদৃশ্য কোনো প্রভাব বা স্বার্থ কাজ করছে। তাদের দাবি, বিশেষ করে বিসিক শিল্পনগরীসহ ফতুল্লা ও কাশিপুরের শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা কেন্দ্রিক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের অপরাধের সমস্যায় ভুগছে। এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করেছিলেন, সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলে প্রশাসনিক নজরদারি ও সেবার মান বৃদ্ধি পাবে, ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
বিসিক শিল্পাঞ্চলের একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে ঝুট সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলে অন্তত সেবার মান বাড়বে এবং প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু শিল্পাঞ্চল বাদ দিয়ে সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ আমাদের হতাশ করেছে। এতে মনে হচ্ছে শিল্প এলাকার সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আগের অবস্থাই বহাল থাকবে।”
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “শিল্পাঞ্চলই যদি সিটি কর্পোরেশনের বাইরে থাকে, তাহলে এই সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শিল্প, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় বিসিকসহ পুরো শিল্পাঞ্চলকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।”
ব্যবসায়ী সমাজের অনেকেই বলছেন, শিল্পাঞ্চল বাদ দিয়ে সীমানা সম্প্রসারণ করা হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী ও শিল্পখাত। তাই তারা সম্পূর্ণ ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এনে একটি কার্যকর ও সমন্বিত সীমানা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

