ডেস্ক রিপোর্ট: নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় শহীদ জিয়া হলের নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে সয়েল টেস্ট চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইমন নামে এক শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা শ্রমিকদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে শহীদ জিয়া হলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে শহীদ জিয়া হলের নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে বুধবার সকালে সেখানে সয়েল টেস্টের কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। তবে হুমকির পরও শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যান।
পরে রাতে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা খাবার খেতে গেলে হামলাকারীরা রাইফেলস ক্লাবের ভেতর দিয়ে জিয়া হল এলাকায় প্রবেশ করে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় শ্রমিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ইমন নামে এক শ্রমিক দুই হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। তার দুই হাতে গুরুতর জখম হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৫০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইমনের দুই হাতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার এক হাতে ২৫টি এবং অন্য হাতে ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান হাসপাতালে গিয়ে আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন।
তিনি বলেন, জিয়া হলের নির্মাণকাজের প্রস্তুতি হিসেবে সয়েল টেস্ট চলছিল। সেখানে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ও মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে এ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শওকত হাসেম শকু জানান, শ্রমিকরা খাবার খেতে গেলে হামলাকারীরা রাইফেলস ক্লাবের ভেতর দিয়ে জিয়া হল এলাকায় প্রবেশ করে। পরে তারা শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যায়। এ সময় ইমন হামলাকারীদের আটকানোর চেষ্টা করলে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
খানপুর ৫০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার জানান, আহতদের মধ্যে ইমন নামে এক শ্রমিকের দুই হাতে সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, আহত শ্রমিকরা থানায় এসেছেন এবং মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর শহীদ জিয়া হল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

