কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা নজরদারিতে আনতে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তালিকা প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম সহজ হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হঠাৎ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কোথায় তাদের অবস্থান—তা চিহ্নিত করতে থানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তালিকায় নেতাকর্মীদের নাম, পদবি, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যসহ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক তথ্য রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বাইরে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। এ কাজে থানা পুলিশ, ডিবি ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের কর্মকর্তারা আরও জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের চলাচল এবং কিছু মোটরসাইকেলের গতিবিধিও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তবে এসব ব্যক্তির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলে তারা জানান।
এদিকে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম অ্যান্ড অপস বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেও এ ধরনের তালিকা করা হয়। বর্তমানে তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকা প্রণয়নের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের ওপর নজরদারি, অবস্থান শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

